First painting of the series “If world goes underwater”.

Criticism

মতামতঃ শিল্পী শওকত শাওনের “Thousand Years Later”

সমালোচকঃ নূরুল আম্বিয়া চৌধুরী (২৬-০৭-২০১৯)

“Art is not truth, it’s a lie that makes us realize the truth”— Picasso.

বিখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো (১৮৮১-১৯৭৩) হয়তো যথার্থই বলেছেন! শিল্প তো ভ্রম, যা-না, তা-কে রেখা, আকার, গঠন, রং, রূপ-রস,মিশিয়ে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা ও সেই ভ্রমের মধ্য দিয়ে সত্যকে অনুধাবন করতে শেখানো বা চেষ্টা করা। শিল্পী, কবি ও বন্ধুবর শওকত শাওনের ‘Thousand Years Later’ শিল্পকর্মটি যে কোন দর্শককে কল্পনার মধ্য দিয়ে সামাজিক সত্য-মিথ্যা অনুধাবনে বাধ্য করবে। চিত্রে যেমনটি বর্ণিত এমনটি হয়তো কখনও হবে না আশা রাখি; তবুও, যেই আশা নিয়ত পদদলিত হচ্ছে, যে স্বপ্ন তিলে তিলে ভেঙে চুরমার হচ্ছে তার বাস্তব প্রতিফলন শৈল্পিকভাবে শিল্পী এই চিত্রটির মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই সুদূরপ্রসারী, চিন্তা-উদ্দীপক চিত্রকর্মের জন্য ইতোমধ্যে তিনি অনেক বাহ বাহ পেয়েছেন! শিল্পীর ভবিষ্যৎ শিল্পচর্চার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা!

‘Thousand Years Later’ oil paint on wood panel.

শিল্পী ও তার শিল্পকর্মের নামকরণের প্রতি যথার্থ সম্মান রেখেই আমি এই শিল্পকর্মের নাম দিলাম- “দ্য মিথলজিক্যাল রেসিসট্যান্স” (The Mythological Resistance) বা ‘পৌরাণিক প্রতিরোধ’। শিল্পী শওকত শাওন তার এই চিত্রকর্মটি কাঠের প্যানেলের উপর তেলরঙ ব্যবহার করে গড়েছেন। ছবিটির আয়তন ৪*৪ ফুট। চিত্রে তিনি ব্যবহার করেছেন প্রধানত প্রুসিয়ান ব্লু ও আলট্রাম্যারিন ব্লুর (নীলের) মিশ্রন, তাছাড়া ক্ষেত্র বিশেষে রয়েছে চেরুলিয়ান (আসমানি) ব্লু, কোবাল্ট ব্লু। এছাড়া রয়েছে নীলচে সবুজ (ভিরিডিয়ান) ও লেমন হলুদের মিশ্রন। নীলের প্রতি শিল্পীর একধরনের ভালোলাগা অনেক আগে থেকেই রয়েছে। চিত্রের ঠিক মধ্যখানে প্রতিস্থাপিত হয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী টিএসসির ‘রাজু ভাস্কর্য’। এটি কোন ডাঙ্গার ছবি নয়, এটি পানির নিচের দৃশ্য। শিল্পী এঁকেছেন গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক ‘রাজু ভাস্কর্যকে’। কল্পনার দৃঢ়তা, রচনার পরিপূর্ণতা, রঙের সন্নিবেশ কাজটিকে করেছে অনুপম সৌন্দর্যে সৌষ্ঠব। শিল্পী দেখাতে চেয়েছেন আজ থেকে প্রায় হাজার বছর পরে কোন এক দুর্যোগ ভাবাপন্ন সময়ে, যখন নীতি নৈতিকতা ভ্রষ্টাচারের কোপে জর্জরিত, সমাজে তিল মাত্র ন্যায়ের জায়গা নেই, দেশের শীর্ষ পাঠশালা তার আদর্শিক জায়গা চ্যুত, প্রয়োজনীয় উপজীব্য মেটাতে ব্যর্থ, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য অতল সমুদ্রে ডুবে আছে, তার গায়ে শ্যাওলা জমেছে, পাশে হাঙ্গর, করাত মাছেরা (অশুভ ভয়ের প্রতীক!) ঘুরছে-ফিরছে। তখন একদল ডুবুরী অভিযানে নেমেছে সেই ঐতিহ্যের খোঁজে। কল্পনা করতেই শরীর শিহরিত হয়! শিল্পীর মনে বেশ কিছু চাপা কান্নার ধ্বনি প্রতিধ্বনি এই চিত্রে ফুটে উঠেছে, উপস্থাপিত হয়েছে বর্তমান সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও ছাত্রদের রাজনীতি কেন্দ্রিক অসুস্থ চর্চা ও সামাজিক অবস্থান। ঠিক যেই উদ্দেশ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাওয়ার কথা- ‘শিক্ষাই আলো’ তার কতটুকু পূর্ণ হচ্ছে তা প্রশ্নবিদ্ধ! সমসাময়িক বেশ কিছু ঘটনা তা জানান দেয় নি কি!

এছাড়াও চিত্রটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে রাজু ভাস্কর্যের উপর দিয়ে ‘মেট্রোরেল’ যাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাবের দৃষ্টিগত বর্ণনা; (উল্লেখ্য, শিল্পী এই প্রকল্প প্রস্তাবনার পর পরই এঁকেছিলেন কার্টুন)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সচেতন শিক্ষার্থী কখনও স্বজ্ঞানে এই কাজটির প্রতি নৈতিক সমর্থন দিবে না কিন্তু, প্রশাসনের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের দরুন এই ঘৃণিত কাজটি ইতিহাসের পাতায় কালো অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মুখরিত স্থান টিএসসি চত্বর। যে কোন আন্দোলন, সংগ্রাম, দাবী আদায়ের মুখ্য ও প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এই চত্বরটি বেশ সমাদৃত। কিন্তু তার উপর দিয়ে পরাধীনতার পতাকা উড়ে যাবে আর কিছুদিন পর। সকল গৌরব ধুলিস্যাৎ হতে আর বাকি নেই! শিল্পী সেই ফলাফল কল্পনা করেই চিত্রটি এঁকেছেন, দেখিয়েছেন কিভাবে ইতিহাস ও ঐতিহ্য একদিন নিঃশেষ হয়। কিভাবে পরবর্তী প্রজন্ম সেই ঐতিহ্য খুঁজতে অতল সমুদ্রে (স্মৃতিতে) পাড়ি জমায়। শিল্পীর এই ভবিষ্যচর্চা যে কোন শিক্ষার্থীর চিন্তায় একটি নিরেট প্রশ্ন জাগ্রত করে তুলছে, ‘কি হচ্ছে প্রাণের ক্যাম্পাসে?’

নীলকে বলা হয় বেদনার রং, এই হৃদয় বিদারক দৃশ্যের বর্ণনা এর চেয়ে ভালোভাবে উপস্থাপন করা যেত কি-না সন্দিহান আমি! শিল্পকর্মটিতে শিল্পী যথেচ্ছ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তবে, শিল্পী  কিছু উপাদান যোগপূর্বক শিল্পকর্মের মূল ভাবাবেগ আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন বলে আমি মনে করি। যেমন, একটি ভাস্কর্য শতাব্দী ধরে পানির নিচে অক্ষত অবস্থায় থাকতে পারেনা (যদিনা তা পাথর ও সংকর ধাতুর হয়), আর রাজু ভাস্কর্য যেই উপাদান দিয়ে তৈরি (প্লাস্টার ঢালাই) তার জন্য এটি এতো দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে অরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারে না। ফলে, ভাস্কর্যটির কিছু অংশ তার গাঠনিক উৎকর্ষতা হারাতে পারে। আর তাছাড়া, রাজু ভাস্কর্য ঠিক তখনই পানির নিচে তলিয়ে যাবে যখন পরিবেশ এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগের মুখোমুখি হবে যেমন, ভুমিকম্প, বা অনেক বড় জলোচ্ছ্বাস। এ ক্ষেত্রে শিল্পী ভাস্কর্যটিকে কিছুটা ভগ্ন রূপ দান করতে পারতেন বলে আমার মনে হয়; কিছুটা মাথা নেই, হাতের কোন অংশ ভাঙা, বা একটি পূর্ণ দেহ পাশে পড়ে আছে। এই  দিকে শিল্পীর ক্ষুদ্রঅমনোযোগিতা কিছুটা বিষাদ দেয়।

যাই হোক, দুটি রেখা যদি চিত্রকর্মের ঠিক মধ্যবিন্দুতে ছেদ করে তাহলে, রাজু ভাস্কর্যটি থাকবে চিত্রের আনুভূমিক রেখার উপরের অংশে, আর উলম্ব রেখাটি ভেদ করে যাবে তিনটি মূর্তির গা ঘেঁষে। তাহলে আমরা বলতেই পারি চিত্রটির ভারসাম্য রক্ষা যথাযথ হয়েছে। চিত্রটিতে শিল্পী বেশ কিছু অনুষঙ্গ যোগ করেছেন যেমনঃ কচ্ছপ, সামুদ্রিক মাছ, ডুবুরী ও  ডানপাশের কোণায় ভগ্নিত সিঁড়ি যা হয়তো স্বপ্ন ভগ্নের প্রতীকী উপস্থাপন। চিত্রটিতে সমানুপাতের বিষয়টিও বেশ সচেতনতার সাথেই নিরীক্ষিত হয়েছে— মধ্যখানে কিছুটা জায়গা ছেড়ে দিয়ে মূল বিষয়বস্তু থেকে বা কেন্দ্র থেকে চোখের সামনের বিষয়কে দূরবর্তী রেখেছেন। এতে মধ্যখানের স্থানিক বিস্তৃতি চোখে পড়ার মত। ছবিটির কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু ‘রাজু ভাস্কর্যই’ রয়ে গেছে। তবে, শিল্পী এই কেন্দ্রকে তলের আরও সামনে নিয়ে আসতে পারতেন। দর্শকের দৃষ্টি ও কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব খানিকটা ঘুচে যেত, যে দূরত্ব ছবির ভাবাবেগের সাথে দর্শককে আরও অন্তিক করে তুলত। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজু ‘সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনে’ শহীদ হন। ১৯৯৭ সালে ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী ও তাঁর সহযোগী গোপাল পালের দ্বারা নির্মিত এই ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানিন্তন উপাচার্য এ. কে. আজাদ চৌধুরী। শিল্পী এখনকার রাজু ভাস্কর্য আর ভবিষ্যতের রাজু ভাস্কর্যকে এক মেলবন্ধনে আবদ্ধ করতে চেয়েছেন বৈকি, তবে মূল প্রতিপাদ্য- ‘রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যাঁতাকলে পৃষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল গৌরব ও অতীত ইতিহাস এবং পুরনো ঐতিহ্যের নিরব মৃত্যু’। তাছাড়া, ঈষৎ নীলের সাথে সাদা রঙে মিশ্রিত ব্রাশের ছাপ উপর হতে পতিত সূর্যের আলোর উপস্থিতি নির্দেশ করে। পানির নিচের আলো ছায়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে তিনজন ডুবুরীর টর্চের মাধ্যমে ‘রাজু ভাস্কর্যকে’ পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে। এরা কারা? এরা নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের এক ঝাঁক তরুণ, যারা ঐতিহ্যের টানে সুদূর নালন্দা, মহাস্থানগড় বা সোমপুর বিহারে ছুটে যেতে দ্বিধা করবে না। পাশাপাশি খুঁজে বেড়াবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালি ঐতিহ্য ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এরা সদা জাগ্রত চিত্ত ও সচেতন আত্মা!

এটা অকাট্য সত্য যে, শিল্পীদের এই সমাজে অনেক দায়বদ্ধতা থাকে। একজন শিল্পী ‘শিল্পী’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠার অনেক আগেই একজন দায়িত্বশীল সামাজিক জীব হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তারপর ধীরে ধীরে নিজ শিল্পকর্মের মাধ্যমে তিনি সমাজের সেই দায়িত্বগুলো পূর্ণ করে জাঁদরেল শিল্পী হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, বা কামরুল হাসান কেন আজও বিখ্যাত? কারণ, তাঁরা শিল্পের মানবিক দিকটি দায়িত্বের সাথে পূরণ করে গেছেন। শিল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনকে তুলে ধরেছেন। একজন শিল্পীর দায়িত্ব যেমন সমাজের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রশংসা করে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা, (শিল্পীর ১১ আগস্ট, ২০১৮ এর উত্তাল টিএসসির রাজু ভাস্কর্য ঘিরে কোটা বিরোধী আন্দোলনের চিত্রটি সেক্ষেত্রে যথার্থ ইতিবাচক ভুমিকা পালন করেছে), আবার তেমনই সমাজের নেতিবাচক দিকগুলোর সমালোচনা করে তা সমাধানের পথ বাতিয়ে দেয়া (এই বর্ণনার চিত্রটি সেই নেতিবাচক দিককে নির্দেশ করে)। শিল্পী শওকত শাওন বলেন, “এই সমাজের অস্থিরতা নিয়ে সবার ভিতরের আসল কথাটা কি এমন না? এখন ব্যাপার হল- কেউ আওয়াজ দেয়, কেউ দেয় না—আমি ছবি আঁকি এবং চেষ্টা করি সেটার মাধ্যমে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরতে। আসলে জানিস কি এখন আর শিল্পী নেই কেউ, রাজনীতির কালো হাতটা সব জায়গায় ছেয়ে গেছে…” সত্যই তাই! তবুও একজন নিষ্ঠাবান শিল্পী চাইলেই চোখ বুজে থাকতে পারে না। শিল্পীর দায়বদ্ধতা থেকেই যায়। একজন শিল্পীর এই দায়বদ্ধতা যে নূতন কিছু তা কিন্তু নয়, এই কাজটি শিল্পিরা যুগ যুগ ধরে নির্মোহ চিত্তেই করে আসছেন। তা না হলে, শিল্পের ইতিহাস সৃষ্টি হত না। শিল্প সমাজের অন্যতম দর্পণ, আর শিল্পিরা সেই নিখুঁত দর্পণের দক্ষ কারিগর।

শিল্পের অন্যতম উপযোগিতা কি? এটি বাসায় সাজিয়ে রাখা বা গ্যালারীতে গিয়ে দেখা ছাড়া অন্য কোন কাজে বেশ তেমন একটা লাগে না, তাইতো? তবুও কেন শিল্পের এতো কদর বিশ্বজুড়ে? শিল্পের অন্যতম উপযোগিতা হচ্ছে, এটি সময়কে ফ্রেমে বন্দি করে রাখে ও/অথবা গত সময়কে দর্শকের সামনে ফ্রেম আকারে ‘দলিলপত্র’ (Documentation) হিসেবে উপস্থাপন করে। শিল্পী শওকত শাওনের এই চিত্রকর্ম কি সেই উপযোগিতা পূরণ করে না? যথার্থই করেছে বৈকি! শিল্পের মাধ্যমে সময় ভ্রমণ করা যায় বলেই এখনও আমরা প্রাগৈতিহাসিক (যখন লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায়নি) যুগের ‘ভিনাস অব উইলেনডরফ’ দেখে সে সময়ের সামাজিক চিত্রের ন্যুনতম বর্ণনা দিতে পারছি। শিল্পের আরও একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, ‘স্থানচ্যুতি’, এটি আপনাকে সময়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে কথা বলতে সাহায্য করে থাকে। “For art, like all the other languages, do have the quality of ‘Displacement’, that means you can talk, you can argue, or can comment on a particular epoch of a certain decade, century or even if it is an age by means of art while you certainly don’t need to be in that time and space. Namely, an informal discussion about the painting ‘The Third of May, 1808’ by Spanish painter Francisco Goya certainly wouldn’t expect a speaker to be present in that era when the Spanish Resistance had been occurred against Napoleon’s armies during the Peninsular War (1807-1814). Art’s more into language rather than being just a piece of art. It’s a communication between society, artists and spectators.”

সে যাই হোক, আজ থেকে কয়েক শতক পরে যখন একজন শিল্পপ্রেমী ও একজন শিল্পবোদ্ধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বসে এই চিত্রকর্মটি দেখবেন তিনি নিশ্চয়ই এই ভেবে পুলকিত হবেন যে, কেউ একজন একবিংশ শতকে বসে সময়ের বেড়াজাল ভেদ করে ভবিষ্যচর্চা করেছেন। আমাদের ধারণা নেই স্বাধীন বাংলাদশ উত্থানের আঁতুড়ঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদৌ তখন কি অবস্থায় থাকবে! ধারণা থাকার কথাও না! তবে, এ তো নির্মম সত্য যে, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড দিনে দিনে তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে! আর সেই চিত্রই শিল্পী রঙ-তুলির আঁচড়ে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। শিল্পী তার নৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এ সংকট হতে উত্তরণের এক সুস্পষ্ট বার্তা দর্শক তথা জনগণের সামনে উপস্থিত করেছেন। এ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নয়, এ সংকট এখন পুরো জাতির মধ্যে মহামারী আকারে ছড়িয়ে গেছে, এ সংকট আমাদের রুচির, আমাদের বিষয় নির্বাচনের, আমাদের কার্যকলাপের ও আত্মার বিশুদ্ধতার! একজন সৃষ্টিশীল আত্মা (শিল্পী, কবি, লেখক, গায়ক ইত্যাদি) ছাড়া এই বার্তা সর্বসাধারণের মাঝে আর কে ছড়িয়ে দিতে পারে! এ কি যথেষ্ট সময় নয় এ জাতিকে হীনমন্যতা ও দুর্যোগ থেকে টেনে তুলবার! ভাবা উচিত…

লেখকঃ শিল্প সমালোচক নূরুল আম্বিয়া চৌধুরী

সময়ঃ ২৬-০৭-২০১৯, ৩.০০ ঘটিকা।

(বিঃদ্রঃ অনুমতি ব্যতিত লেখার কোন অংশ অন্য মাধ্যমে প্রকাশ বা ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ)

Copyright of the criticism part owned by Critic Nurul Ambia Chowdhury.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *